ইউরোপের রাস্তায় একটু নজর রাখলেই বৈদ্যুতিক গাড়ি চোখে পড়ে, তবে এর বেশিরভাগই শতভাগ বৈদ্যুতিক না। বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে গবেষণা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। এলন মাস্কের হাত ধরে টেসলা বেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এক্ষেত্রে। এই ধরণের গাড়ি যে ভবিষ্যতে রাজত্ব করবে সেটা এখন এক প্রকার নিশ্চিত। অধিকাংশ স্বনামধন্য গাড়ি নির্মাতারা এই সত্য উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাই তারাও এখন কিভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ির নকশা উন্নয়ন করা যায় সেটা নিয়ে ব্যস্ত। আর একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গাড়ির এই নতুন ধারা অনুসরণ করতে না পারলে তাদের ব্যবসার পরিধি কমে যাবে।

কিন্তু কেমন হবে এই গাড়িগুলো? কোন কোন কোম্পানি সামিল এই নতুন যুদ্ধে? কার হাতে তৈরি হচ্ছে কেমন হাতিয়ার? আজ আমরা সেটাই জানার চেষ্টা করব। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক, কেমন হতে পারে বাজার কাঁপাতে আসা বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো।

Lotus Type 130

লোটাস টাইপ ১৩০ হবে লোটাসের তৈরি প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি যা তৈরি করা হবে সীমিত সংখ্যায়। তবে এই মডেলটি লোটাসকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দুনিয়াতে আসার রাস্তা করে দেবে। আশা করা হচ্ছে এই মডেলটি হবে এর পূর্ববর্তী প্রজন্ম ‘এক্সাইজ’ এর মত ১০০০ ব্রেক হর্স পাওয়ার ও চার মোটর বিশিষ্ঠ। এটি হবে ১০০০ কেজির কম ওজন বিশিষ্ট ও চমকপ্রদ কার্যক্ষমতা সম্পন্ন। এটির দামও হবে বেশ চড়া। এই বছরের জুলাই নাগাদ বাজারে আসতে পারে গাড়িটি।

লোটাস টাইপ ১৩০; Image Source: Autocar

Ford Mustang Electric

২০১৮ সালের ডেট্রয়েট মোটর শোতে ফোর্ড ঘোষণা দেয় যে তারা বৈদ্যুতিক গাড়ির উন্নয়নে ১১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং ২০২২ সালের মধ্যে ৪০টি বিদ্যুৎ চালিত বাহন তারা রাস্তায় নামাবে। এর মাঝে ১৬ টি হবে সম্পূর্ন বৈদ্যুতিক এবং বাকি গুলো হবে হাইব্রিড।

বৈদ্যুতিক গাড়ির উন্নয়নের জন্য ‘ফোর্ড টিম এডিসন’ নামে আলাদা একটি দল গঠন করা হয়েছে যারা বেশ আগে থেকেই দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে গাড়িপ্রেমীদের চমকে দেবার জন্য। সিএনবিসির একটি প্রতিবেদনে ফাঁস হয়ে যায় যে, টেসলা যখন তাদের ‘মডেল ওয়াই’ এর কথা বাজারে প্রকাশ করে তখন ফোর্ড তাদের বৈদ্যুতিক মাসটাং পরীক্ষা করছিল। ফোর্ডের মতে তারা চায়না তাড়াহুড়া করে কিছু করতে, বরং তারা আস্তে আস্তে শিখছে। আমরাও আশা করছি খুব দ্রুত তাদের কাছ থেকে কিছু শুনতে পাবো।

মাস্টাং ইলেকট্রিক; Image Source: Digital Trends

Peugeot e-208

২০১৯ সালের জেনেভা শোতে কোম্পানিটির এই ‘সিটি কার’ সবার মন জিতে নিয়েছিল। ই-২০৮ মডেলটি নকশার দিক থেকে ৮০’র দশকের বিখ্যাত মডেল ২০৫ এর অনেকটা কাছাকাছি। তবে দেখতে শান্তশিষ্ট হলে কি হবে আদতে এটি বেশ চটপটে একটি গাড়ি। এতে যুক্ত ৫০ কিলোওয়াট আওয়ারের ব্যাটারি একে দেবে দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে চলার শক্তি। 

বৈদ্যুতিক ই-২০৮; Image Source: topgear.com

Tesla Model Y

আমরা ইতিমধ্যে জেনে গেছি টেসলা মডেল ওয়াই নামে নতুন একটি গাড়ি বাজারে আনতে যাচ্ছে। এটি হবে মডেল এক্স ও মডেল ৩ এর মাঝামাঝি একটি ছোটোখাটো এসইউভি। এর অন্দরসজ্জা অনেকটাই মডেল ৩ এর মত। এটি ৫.৯ সেকেন্ডে ০ থেকে ৬০ কিমি গতি তুলতে সক্ষম আর একবার চার্জ দিলে ২৪২ মাইল পাড়ি দিতে পারবে। সাত আসনের গাড়িটি কার্যক্ষমতার দিক থেকে অনেক উন্নত। ২০২০ সাল নাগাদ বাজারে আসতে পারে মডেল ওয়াই।

টেসলা মডেল ওয়াই; Image Source: Tesla

Audi Q4 Concept

অডির কিউ-৮ মডেল যেভাবে কিউ-৭ এর সাথে সম্পর্কিত ছিল ঠিক সেভাবেই কিউ-৪ মডেলটি অনেকটাই কিউ-৩ মডেলের সাথে মিলে যায়। একরকম হলেও গুরুত্বপূর্ন কিছু অমিল আছে। যেমন কিউ-৪ সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক। এই এসইউভি এর কাঠামো অনেকটা কূপে ঘরানার কাঠামো। এই মডেলেরও এক ঝলক দেখা গিয়েছিল জেনেভা মোটর শোতে। যদিও সেটা ছিল প্রোটোটাইপ মডেল তবে আমরা আশা করতে পারি যে খুব শীঘ্র অডি কিউ-৪ কে আমরা বাজারে দেখতে পাবো।

অডি কিউ-৪ কনসেপ্ট; Image Source: Audi.com

Seat El Born

বৈদ্যুতিক গাড়ির মিছিলে সিট যুক্ত হচ্ছে এল বর্ন মডেলের গাড়ি নিয়ে। এই নামটি নেয়া হয়েছে বার্সেলোনার একটি জায়গার নাম থেকে। এই গাড়িরও প্রথম আত্মপ্রকাশ হয় জেনেভা মোটর শোতে আর ২০২০ সাল নাগাদ বাজারে আসতে পারে এল বর্ন। এল বর্ন ৭.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ৬২ কিমি গতি তুলতে পারবে আর একবার চার্জ দিলে ৪২০ কিমি বা ২৬০ মাইল রাস্তা পাড়ি দিতে পারবে। এটিতে ৬২ কিলো ওয়াট ঘন্টার ব্যাটারি ও ১৫০ কিলো ওয়াটের মোটর যুক্ত করা হয়েছে। 

সিট এল বর্ন ; Image Source: CAR Magazine

Honda e

হোন্ডার ২০১৭ এর আরবান ইভি কনসেপ্ট এর কথা মনে আছে? সেটারই পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ এই হোন্ডা ই। ই মডেলটি হবে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক এবং আশা করা যায় এই বছরেই মানে ২০১৯ সালেই এটিকে রাস্তায় দেখা যাবে। শহরবাসীর কথা চিন্তা করে এর আকার ছোটোখাটো রাখা হয়েছে আর একবার চার্জে এটি ২০০ কিমি বা ১২৫ কিমি রাস্তা পাড়ি দিতে পারবে। 

পাঁচ দরজার গাড়িটিতে আয়নার সাথে ক্যামেরা যুক্ত থাকবে। বিভিন্ন ধরণের রাস্তার কথা চিন্তা করে একে সব ধরণের রাস্তায় চলার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। মজার বিষয় এটি রিয়ার হুইল ড্রাইভ গাড়ি।

হোন্ডা ই টাইপ; Image Source: Autocar

গাড়ির প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ বোধ করেনা এমন মানুষ কমই আছে। খুব আধুনিক আর দামী গাড়িগুলো কেনার সামর্থ্য আছে এমন মানুষও খুব কম। তবে প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে চলছে আর মানুষ পরিবেশ বিষয়ে এখন যতটুকু সচেতন তাতে পরিবেশ বান্ধব আধুনিক গাড়ির দামও হয়ত মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। গাড়ি কোম্পানিগুলো এই বিষয়ে সচেতন। তারাও চায় এই গাড়ির দাম কমুক, এতে তাদেরই লাভ। এখন আমাদের অপেক্ষার পালা।